৫ শতাধিক বছরের প্রাচীন শংকর পাশা মসজিদ

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাংলারজমিন ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার

সিলেট বিভাগে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত ও প্রাচীন স্থাপত্য সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ জেলা। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের শংকর পাশা গ্রামে অবস্থিত উচাইল শংকর পাশা শাহী জামে মসজিদ। হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন স্থাপত্যের একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদ গাত্রে উৎকীর্ণ শিলালিপির তথ্যে জানা যায়, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজলিশ আমিন ১৫১৩ সালে এটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন। এ মসজিদের পাশেই তার সমাধি রয়েছে। কালের বিবর্তনে এক সময় মসজিদ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা ঘণ অরণ্য ভূমিতে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে জঙ্গলবেষ্টিত এ এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠার প্রাক্কালে আবারো জনসম্মুখে আসে এ মসজিদটি।
তথ্যে জানা যায়, এ মসজিদ ভবনটি একটি একচালা ভবন, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই পরিমাপের। যার দৈর্ঘ্য সাড়ে ২১ ফুট আবার প্রস্থও ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি।
এর সম্মুখের বারান্দাটির প্রস্থ তিন ফুটের একটু বেশি এবং এতে চারটি গম্বুজ রয়েছে। এই মূল ভবনের মধ্যভাগে একটি বিশাল গম্বুজ এবং বারান্দার উপর রয়েছে তিনটি ছোট গম্বুজ। মসজিদটিতে মোট ১৫টি দরজা ও জানালা রয়েছে যা পরস্পর একই আকৃতির। উত্তর পূর্ব ও দক্ষিণ, এই তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় পাঁচ ফুট এবং পশ্চিমের দেয়ালটি প্রায় দশ ফুট। এতে মোট ছয়টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ রয়েছে। প্রধান কক্ষের চারকোণে ও বারান্দার দুই কোণে অবস্থিত। উপরের ছাদ আর প্রধান প্রাচীরের কার্নিশ ধনুক আকৃতির বাঁকানোভাবে নির্মিত। মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি বড় দীঘি রয়েছে। মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন হবিগঞ্জের উচাইল শংকর পাশা শাহী মসজিদ। মসজিদটি সুলতানি আমলের স্থাপত্য নিদর্শনের চিহ্ন বহন করে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তর্গত উচাইল নামক গ্রামে ছেট্ট একটি টিলার উপর প্রায় ৬ একর ভূমির ওপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।
জানা যায়, অত্যন্ত চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর কারুকাজ সমৃদ্ধ মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দেখার মতো। পোড়া মাটির তৈরি নান্দনিক কারুকার্য ও অসাধারণ নির্মাণশৈলী আধুনিকতাকে হার মানায়। এ সমস্থ পোড়া মাটির নক্সা কাটা ফলক ইমারতের দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে। দেয়ালের বহিরাংশে পোড়া মাটির বিভিন্ন নকশা এবং অলঙ্করণ সহজেই দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পোড়া মাটির নক্সা আঁকা মসজিদটি দৃশ্যত লাল বা রক্তিম বর্ণের হওয়ায় লোকজন এটিকে ‘লাল মসজিদ’ বলে থাকেন। আবার এটির অবস্থান একটি টিলাশৃঙ্গে। এ দুই বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে মসজিদটিকে ‘লালটিলা মসজিদ’ও বলা হয়। এ মসজিদটি পুনঃআবির্ভূত হওয়ায় অনেকেই এটিকে গায়েবি মসজিদও বলে থাকেন। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রাচীন এ মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের হাতে রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা ভোটার বাতিলের রায় আপিলে বহাল

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহিন সরকার ও সদস্য আশরাফ হোসেন ...

বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্স ও থানা ভবনের জায়গার মামলা স্থগিত

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্স ও থানা ভবনের জায়গার মালিকানার আলোচিত মামলাটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত ...

লালমোহনে মাছের পোনা অবমুক্ত

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জুট মিল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে হাজারো শ্রমিক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

 লোকসানের অজুহাতে সরকার দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দিলেও সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের পরিসংখ্যান ...

রাণীনগরে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

লাগাতার বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানিতে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ...

মেঘনায় বিলীন ৩২ দোকানঘর

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট বাজার থেকে এক সময় মেঘনার দূরত্ব ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই ...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসাতে ...

কিশোরগঞ্জে সহায়-সম্পদ ও জীবন রক্ষায় দুই নারীর আকুতি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

কিশোরগঞ্জে সহায়-সম্পদ জবরদখল হওয়া এবং জীবন রক্ষার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছা. জিন্নাত আরা ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত