জঙ্গি ‘হুমকি’ দেশজুড়ে সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫১

ঈদকে ঘিরে জঙ্গিরা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন আশঙ্কায় সারা দেশের পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশের প্রতিটি ইউনিটেই পাঠানো হয়েছে সতর্কতা বার্তা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের    মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। হামলার সম্ভাব্য স্থানে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। জঙ্গি নিয়ে কাজ করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সদস্যরা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী সাধারণত কোনো সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই উলায়াত ঘোষণা করা হয়। তাই আইএস সংগঠনগুলোর সদস্যরা বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন নাশকতামূলক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে।
তাই বিমানবন্দর, পুলিশের স্থাপনা, যানবাহন, দূতাবাস এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে জঙ্গিরা হামলা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহ এবং স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমনকি মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। ঈদের আগে, ঈদের দিন বা ঈদের পরেও এই হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা  হচ্ছে। গত ১৯শে জুলাই জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থান নিতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সারা দেশের পুলিশের ইউনিট প্রধানদের একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা সকাল ৬টা থেকে ৮টা বা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে হামলা চালাতে পারে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছে পুলিশ সদস্য, পুলিশের স্থাপনা ও যানবাহন, বিমানবন্দর। এছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসে হামলা হতে পারে বলে বলা হয়েছে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার দূতাবাস বা এসব দেশের স্থাপনা ও ব্যক্তি এবং শিয়া ও আহমদিয়া মসজিদ, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডাকে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে হামলাকারীর বয়স সম্পর্কে বলা হয়েছে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী জঙ্গিরা হামলায় অংশ নিতে পারে। দূরনিয়ন্ত্রিত গ্রেনেড, বোমা, ক্ষুদ্রাস্ত্র কিংবা ছুরি-চাপাতি দিয়ে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। এছাড়া চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জঙ্গিরা পুলিশের পোশাক পরে বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করতে পারে। তাই পোশাক পরা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।
ডিএমপিসূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সতর্কবার্তা পেয়েই ডিএমপি’র সব ডিসিদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) থেকেও ডিসিদের বার্তা পাঠানো হয়েছে। এরপরও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করণীয় সম্পর্কে জানাতে সকল ইউনিট প্রধান ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ডিএমপি কমিশনার। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় সিটিটিসি’র ডিসি সাইফুল ইসলাম একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন। সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়মিত চেকপোস্ট বসাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশের জঙ্গি বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেছেন, আরবি জিলহজ মাসে হামলা করাকে জঙ্গিরা পুণ্যের কাজ মনে করে। এই মাসে সবসময়ই হামলার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। তাই এই মাসটি ঘিরে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।
কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল। বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা তাদের নেই। তবে ঈদের আগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করতে পারে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে।
এদিকে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানোর পাঁচ দিনের মাথায় শুক্রবার রাত ৯টায় ঢাকার পল্টন মোড়ে পুলিশের একটি চেকপোস্টের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় বিস্ফোরিত দ্রব্যটিকে হাতে তৈরি বোমা বা আইইডি উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চার ইঞ্চি ব্যাসের জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, লাল ও নীল রঙের তারের অংশ, লোহার বিয়ারিং বল এবং ৯ ভল্টের ব্যাটারি অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বোমার সঙ্গে গত বছর ঢাকায় পুলিশের ওপর হামলায় ব্যবহৃত বোমার মিল রয়েছে। ওই সময় পাঁচটি বোমার চারটিই ছিল দূর নিয়ন্ত্রিত। তবে পল্টনের বোমাটি দূরনিয়ন্ত্রিত ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরেরদিন রাতে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশ থেকে উদ্ধার  করা হয়েছে গ্রেনেডসদৃশ আরেকটি বস্তু। কালো টেপে মোড়ানো ওই বস্তুতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বোমা বিস্ফোরক টিম এর ভেতরে বালু পেয়েছেন। পল্টনের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের আলামত দেখে মনে হয়েছে সেটি জঙ্গিদেরই কাজ। কারণ জঙ্গিরাই সাধারণত এ ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি, নৌবাহিনীর ২১ সদস্য আহত

বৈরুতে হিরোশিমা

৬ আগস্ট ২০২০

কক্সবাজারে সেনাপ্রধান ও আইজিপি’র ব্রিফিং, সিনহার মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা

দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরবে না

৬ আগস্ট ২০২০

মা’কে প্রধানমন্ত্রীর ফোন, বিচারের আশ্বাস

সিনহার মৃত্যু নানা প্রশ্ন

৫ আগস্ট ২০২০

পানির দরে বিক্রি হলো গরিবের হক চামড়া, কোথাও কোথাও উচ্ছিষ্ট

বঞ্চিত

৫ আগস্ট ২০২০

দেশে করোনার ৫ মাস, একদিনে আরো ৫০ মৃত্যু

৫ আগস্ট ২০২০

দেশে করোনা শনাক্তের হার বাড়ছেই। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে কম। ৩রা ...

কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

সত্য প্রকাশ করা সাংবাদিকের মৌলিক অধিকার

৫ আগস্ট ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত