লিবিয়ায় হতাহতের ঘটনায় মাদারীপুরে ৩টি মামলা, গ্রেপ্তার ২

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

বাংলারজমিন ১ জুন ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:২১

লবিয়ায় বাংলাদেশীদের মানব পাচারের এবং হত্যার ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি এবং রাজৈর থানায় ২টি মামলা দায়ের করেছে ৩ নিহতের পরিবার। ৩টি মামলায় ১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশি হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই মাদারীপুরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত ও মানব পাচারের শিকার মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের মো. শামীম হাওলাদারের বাবা হালিম হাওলাদার বাদী হয়ে রোববার বিকেলে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে দালাল নজরুল মোল্লার স্ত্রী দিনা বেগমকে। দালাল নজরুল মোল্লা এখন লিবিয়াতে রয়েছেন।
এই ঘটনায় রোববার রাতেই মামলার প্রধান আসামী দিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে একই ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরে লিবিয়ায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা করেছে রাজৈর থানায়। এছাড়াও রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু খায়ের খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা জুলহাস সরদারসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের নিহত মানিক হাওলাদারের পিতা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, “আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। আমি আমার ছেলেকে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি।
একই গ্রামের নিহত জুয়েল হাওলাদারের পিতা রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, আমার ছেলেসহ রাজৈরের বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় ৩/৪ মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজীতে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরো ১০ লাখ টাকা দাবী করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি।
রাজৈর থানার ওসি খন্দকার শওকত জাহান বলেন, মানব পাচারের ঘটনায় রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। দালাল জুলহাস দুটি মামলারই আসামী। একটি মামলায় ৭ জন ও অপর মামলায় ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে জুলহাস করোনা পজেটিভ হওয়ায় পুলিশি হেফাজতে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, মানব পাচারের ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে নিহত শামীমের বাবা হালিম হাওলাদার। এই মামলার প্রধান আসামী দিনা বেগমকে আমরা রাতে গ্রেপ্তার করেছি। এখন আদালতে প্রেরণ করা হবে।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

আনোয়ারায় ইয়াবাসহ আটক ১, স্ত্রীর দাবি ষড়যন্ত্র

১০ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ মনতাজ উদ্দীন ( ৪৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ...

মতলবে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

৯ জুলাই ২০২০

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আনিছুজ্জামান চৌধুরী ...

বাজিতপুরে অটোবাইকসহ চালক নিখোঁজ

৯ জুলাই ২০২০

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাসহ মো. রাব্বী (১৮) নামে এক অটোবাইকচালক নিখোঁজ হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার ...

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ৬ মাসে তিনবার চুরি

৯ জুলাই ২০২০

শনাক্তকৃত চোর গ্রেফতার না হওয়ায় কুড়িগ্রামে সরকারি কলেজে ৬ মাসে পরপর তিনবার চুরি সংগঠিত হয়েছে। ...

শিবচরে ব্যাংক কর্মচারীসহ ৩ জন আক্রান্ত

৯ জুলাই ২০২০

করোনায় শিবচরে এক ব্যাংক কর্মচারীসহ নতুন করে ৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে করোনা উপসর্গ ...

কুমিল্লায় প্রবাসী হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

৯ জুলাই ২০২০

কুমিল্লা সদর উপজেলার আনন্দপুর এলাকার বহুল আলোচিত প্রবাসী মোক্তার হোসেন ফরাজী হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ ...

দ্য ডিপ্লোম্যাটের রিপোর্ট

বাংলাদেশ এবং চীন-ভারত উত্তেজনা

১০ জুলাই ২০২০



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত