ট্রাম্পের টুইট ‘হাইড’ করলো টুইটার

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইট তার প্রোফাইল থেকে লুকিয়ে (হিডেন) রেখেছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে ওই টুইটটি সহিংসতার প্রশংসা বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করেছে। তবে ট্রাম্পের ওই টুইটটি মুছে ফেলা হয়নি। তার মূল টুইটের ওপর একটি সতর্কতা জুড়ে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ, যা ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে। পাশেই ভিউ বাটনে ক্লিক করলেই ট্রাম্পের মূল টুইট খুলে যাচ্ছে। ওই সতর্কতায় বলা হয়েছে, টুইটার স্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই টুইটটি ওখানে জনগণের স্বার্থে থাকা উচিত। টুইটার ও হোয়াইট হাউজের মধ্যে উত্তেজনাকর অবস্থার এটা সর্বশেষ পরিস্থিতি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে একজন কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুবরণ করে পুলিশের নির্যাতনে। এ নিয়ে সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। চলছে লুটপাট। এ নিয়ে টুইট করেছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেখানে ন্যাশনাল গার্ড পাঠাবেন। যদি লুটপাট শুরু হয় তাহলে তারা গুলি করা শুরু করবে। তার প্রথম এই টুইটের পরেই দ্বিতীয় টুইট ‘হাইড’ করেছে  টুইটার। বলা হয়েছে, এতে সহিংসতার প্রশংসা বিষয়ক নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে।

তবে টুইট মুছে না দিয়ে সেখানে সতর্কতা জুড়ে দেয়ার মাধ্যমে টুইটই নিজের নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে বলা হচ্ছে। সামাজিক এই নেটওয়ার্ক কখনোই এই নিয়ম ট্রাম্পের ওপর প্রয়োগ করে নি। এমনকি তার কোনো টুইট এর আগে মুছে দেয় নি। বৃটেন ভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য এনালাইসিস অব সোশাল মিডিয়া ডেমোস-এর কার্ল মিলার বলেছেন, আমি এ  যাবত যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছে টুইটার। এতে অনলাইনের ক্ষতি বনাম মুক্তভাবে কথা বলা নিয়ে বিতর্কে ঘি ঢালা হবে।

বছরের পর বছর ধরে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্য যেকোনো টুইটার ব্যবহারকারীর মতো আচরণ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে টুইটার। তিনি টুইটারের নিয়ম মেনে চলুন এমন আহ্বানেও সাড়া দেয় নি টুইটার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত বুধবার তারা ছোট্ট একটি পদক্ষেপ নেয়। এদিন তারা ট্রাম্পের টুইট মুছে না দিয়ে, তার সঙ্গে একটি সত্য অনুসন্ধানী লিঙ্ক জুড়ে দেয়। এর পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে টুইটারের বিরোধ শুরু হয়ে যায়। এর ফলে টুইটারের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে। এক. নমনীয় হওয়া। দুই নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া। তারা দ্বিতীয়টিকেই বেছে নিয়েছে। বলেছে, প্রেসিডেন্ট ‘গ্লোরিফাইং ভায়োলেন্স’ রুল লঙ্ঘন করেছেন। এমনটা হলে অন্য ব্যবহারকারীর ‍টুইট মুছে দেয়া হতো অথবা তাদের একাউন্ট স্থগিত করে দিতো টুইটার। কিন্তু এক্ষেত্রে দুটোর কোনোটিই করা অতোটা সহজ নয়। মুক্তভাবে কথা বলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদারপন্থি কন্টেন্ট প্রকাশে তীব্র এক লড়াই শুরু হয়ে যাবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রিপন

২০২০-০৫-২৯ ২১:৪৫:০৬

সুদিচক্রের পরিচালিত মিডিয়া ফেইকবুক, টুইটার স্পষ্ট সত্যবাদীতাকে পারলে ডিলিট করে এ্যাকাউনট ব্লক করে দিতো, পারে নি, তাই হাইড করেছে মাত্র। মিনিয়াপোলিসের গোঁড়া বামপন্থী মেয়র জ্যাকব ফ্রে অঙ্গরাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার নজিরমাত্র। তার দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফলেই পুলিস প্রকাশ্য দিবালোকে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে খুন করে, জবাবে সে শুধু পুলিসকে মাত্র বরখাস্ত করে, যেখানে ওই পুলিস সদস্যদের বিচারিক আদালতে ফৌজদারি দণ্ডবিধি মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিবিধান করার কথা। তারই আশ্রয় প্রশ্রয়ে পুলিস সিএনএন সাংবাদিককে লাইভ সম্প্রচারের সময় গ্রেপ্তার করে। জ্যাকবের ব্যর্থতার জন্যে অঙ্গরাজ্যটির অবস্থা ক্রমেই অশান্ত হয়ে যেতে থাকছে। টুইটার হাইড করেছে, কারণ মিসটার ট্রামপের বক্তব্যটি সুদিচেক্রের স্বার্থের প্রতিকূলে যায়, তাদের গায়ে জ্বালা ধরে, ঘটনার ভেতরের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায় জনসমক্ষে, এমনিতেই তা আর ক'দিন ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারবে তারা? আমাদের মানবজমিনও কম যায় না দেখছি। আমার একটি বক্তব্যকে তারা প্রকাশ করে নি। থানা লুট, পুলিসকে হাতের কাছে যেখানে পাও গুলি করে মেরে ফেল - এসব কি মানবজমিন লুকোতে পারছে? এসবই বাস্তবে ঘটে চলেছে এখন। থানা আক্রমণ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, গুলি করা হচ্ছে, মারমুখি জনতার ধাওয়া খেয়ে পুলিস সদলবলে থানা ফেলে চোঁচা ভাগছে দু ঠ্যাঙয়ের ফাঁকে ন্যাজ দাবিয়ে জান বাঁচাতে - সব এখন মানুষ ঘরে বসেই জানতে পারছে, আর মানবজমিন ভয়ে ছাপতে চায় না কথাগুলো! আশ্চর্য। কোথায় কোন্ হাজার বছর পিছিয়ে আছে এদেশের মিডিয়ার মন মানসিকতা! আমেরিকার রাস্তার ধারের নিতান্ত খেটে খাওয়া মানুষটিও এর চাইতে বেশি সচেতন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এর চাইতে বেশি সোচ্চার, সত্য ন্যায়ের পক্ষে গণসচেতনতা আর জনমত সংগঠিত করতে এর চাইতে বেশি সক্রিয় কর্মতৎপর। তারা সংবাদপত্র পড়ে। আমাদের মিডিয়ার লোকজন নিজেরাই সংবাদপত্রে পড়ে না, নিজের লেখাটুকু ছাড়া আর কোন সংবাদপত্র পড়ে না, পড়তে চায় না। জগত দুনিয়ার চলমান হালহকিকত সম্পর্কে এত্ত বেখবর, উদাসীন! সাজুগুজু স্পটলেস গুড বয়, গুড গার্ল হয়ে থাকতে চায় প্রভু সুদিচক্রের কাছে। এ দিয়ে ইঁদুরের ক্ষুণ্নিবৃত্তি নিবারণ চলে বড়জোর, কিন্তু এ দিয়ে সমাজবিকাশ হয় না, মনে রেখ।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন

৯ জুলাই ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



২৩৯ বিজ্ঞানীর দাবি

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত