বিদেশে থাকা উইগুরদের দমাতে চীনের কৌশল

অনলাইন ২৫ মে ২০২০, সোমবার, ১২:১২

চীনের উইগুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং রাজ্যের অধ্যাপক ইমিনজান সায়দিনকে তিন বছর আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ সম্প্রতি তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়৷ বাবার মুক্তির জন্য ক্যাম্পেন চালাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামিরা ইমিন৷

মুক্তি পাওয়ার পর এক ভিডিওতে তাঁর বাবা বিদেশে থাকা চীনবিরোধীদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হতে তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানান সামিরা ইমিন৷

তিনি বলেন, তাঁর বাবা খুব একটা ধার্মিক ছিলেন না৷ ধর্মপালনে তিনি সাধারণত চীন সরকারের নীতি মেনে চলার চেষ্টা করতেন৷

২০১৭ সালের মে মাসে সায়দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এরপর ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে ‘মৌলবাদী মতাদর্শ উসকে’ দেয়ার অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়৷ সম্প্রতি হঠাৎ করে তাঁকে মুক্ত করে দেয়া হয়৷

অধ্যাপনার পাশাপাশি সায়দিন ২০১২ সালে একটি প্রকাশনা সংস্থা চালু করেন৷ সেখান থেকে তিনি আরবি ব্যাকরণের উপর একটি বই প্রকাশ করেছিলেন৷ এর বাইরে প্রযুক্তি, শিক্ষা, মনস্তত্ত্ব ও নারী বিষয়ে ৫০টির বেশি বই প্রকাশ করেছেন৷

চীন সরকার গত তিন বছরে কয়েকশ বুদ্ধিজীবীসহ হাজার হাজার মানুষকে ধরে নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ মুসলমানদের ‘পুনরায় শিক্ষিত’ করতে এসব ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়৷

এই প্রশিক্ষণ ‘ঐচ্ছিক’ বলে দাবি করে চীন সরকার৷ কিন্তু গত নভেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস' জানায়, এসব ক্যাম্পে বন্দিদের আদর্শ ও আচরণগত প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে তাঁদের মনোজগতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়৷সায়দিনের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁর মেয়ে ইমিন৷ তিনি জানান, ৪ মে বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র চায়না ডেইলি তাঁর বাবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷ ঐ ভিডিওতে তাঁর বাবার বক্তব্য অদ্ভুত শুনিয়েছে বলে জানান ইমিন৷ ভিডিওতে সায়দিন বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিদেশে থাকা চীনবিরোধী কিছু পক্ষ আমার মেয়েকে বিভ্রান্ত করেছে৷ তারা দাবি করছে, আমাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছিল৷ এসব কথা বিভ্রান্তিকর ও অর্থহীন৷ আমি খুব ভালো আছি, মুক্ত আছি৷''

ভিডিওতে সায়দিন তাঁর মেয়েকে ‘বিভ্রান্তিকর গুজব’ বিশ্বাস না করতে এবং ‘তাঁর আটকের বিষয়ে' বিদেশে মিথ্যা তথ্য না ছড়ানোর পরামর্শ দেন৷

সায়দিন আরো বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের সহায়তা ছাড়া তিনি কোনোদিন অধ্যাপক হতে পারতেন না৷ বিদেশে পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য দলকে ধন্যবাদ জানাতেও মেয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷

সায়দিন বলেন, ‘‘আমাদের পরিবারের প্রতি পার্টি ও সরকারের দয়া ছাড়া এসব অর্জন করা অসম্ভব ছিল৷’’

মেয়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস ছিল তুমিও এভাবেই চিন্তা কর৷ কিন্তু তুমি যা বলেছো তা শুনে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে৷ আমার মেয়ে কীভাবে এমন কথা বলতে পারে?’’

পরবর্তীতে বাবার সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান ইমিন৷ তিনি তাঁকে কোনো ধরনের অ্যাক্টিভিজমে না জড়াতে পরামর্শ দেন৷ ‘খারাপ লোকেদের’ কথা না শুনতেও মেয়েকে পরামর্শ দেন বাবা সায়দিন৷

বাবার এমন কথাবার্তায় মেয়ে ইমিনের মনে হচ্ছে, বাবা আসলেই মুক্ত কিনা৷

এবারই প্রথম নয়

বিদেশে বসবাসরত উইগুরদের শায়েস্তা করতে শিনজিয়াংয়ে থাকা আত্মীয়স্বজনদের দিয়ে এমন ভিডিও রিলিজের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে৷

উইগুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টের কর্মকর্তা পিটার আরউইন ডয়চে ভেলেকে বলেন, শিনজিয়াংয়ে থাকা মানুষদের দিয়ে বিদেশে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বলছে সরকার৷ ফোনে তাদের চীনে ফিরে আসতে বলার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে৷

চীন সরকার ইমিনের মতো ঘটনা কাজে লাগিয়ে বিদেশে থাকা উইগুরদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে বলেও মন্তব্য় করেন আরউইন৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৫-২৬ ০০:২৫:২০

উইঘুর মুসলিমদের দমনের নিত্য নতুন কৌশল বাদ দিতে হবে চীনাদের। তাদের এসব কৌশল থেকেই বুঝতে অসুবিধা হয়না যে, তারা চরম মুসলিম বিদ্বেষী। তাদের মধ্যে পরধর্মে সহনশীলতা নেই। আছে জিঘাংসা। মুসলমানদের দমনের নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করায়, প্রশ্ন জাগে তারাই কী তাহলে উইঘুর মুসলিমদের চিরতরে নির্মুল করতে তাদের ল্যাবটরিতে করোনা ভাইরাস তৈরি করেছে। যা নাকি এখন বিশ্বব্যাপী মৃত্যুফাঁদ তৈরি করে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা যদি মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার ভোগ করার অবারিত সুযোগ দিতো এবং পরধর্মে সহনশীল হতো তাহলে না হয় এই সন্দেহটা উড়িয়ে দেয়া যেতো। তাই যতো দিন তারা মুসলমানদের নিধনের মিশন থেকে সরে না আসবে ততোদিন তাদের দিকে সন্দেহের তীর বলবৎ থাকবে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত