আবার তেঁতে উঠেছে হংকং

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৪ মে ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৫

করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে পিছনে ফেলে আবার তেঁতে উঠেছে হংকং। সেখানে নতুন নিরাপত্তামুলক আইন পরিকল্পনা করছে চীন। এমন ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই গণতন্ত্রপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ফলে চীনের ওই পরিকল্পনা ঘোষণা দেয়ার পর আজ প্রথম বিক্ষোভকারীরা চীনের দমননীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন রাস্তায়। শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এ সময় তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, মরিচের গুঁড়া ছুড়েছে পুলিশ। এর আগে নতুন এমন আইন চাপিয়ে দেয়ার সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বিশে^র সিনিয়র ২০০ রাজনীতিক।

এতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, চীনের এই আইন ওই শহরের স্বায়ত্তশাসন, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের অবমাননা।
উল্লেখ্য, হংকংয়ের নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন একটি আইন পাস করতে যাচ্ছে। এই আইনে হংকংয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ধ্বংসলীলার মতো বিষয় নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আইনটি হলে হংকংয়ে কেউ বৈধভাবে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। তারা স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে পারবেন না। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির কেন্দ্র হংকংয়ে এই আইনের ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হবে। কিন্তু চীন সেই আতঙ্ককে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা ‘কাদা ছোড়াছুড়িতে’ ব্যস্ত দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করেছে।

বর্তমানে হংকংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। তাকে দেখা হয় বেইজিংপন্থি রাজনীতিক হিসেবে। তিনি এরই মধ্যে প্রস্তাবিত আইনের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই আইন হলে হংকংয়ের স্বাধীনতা অপরিবর্তিত থাকবে।

ওদিকে আজ রোবববার শহরের ব্যস্ততম কজওয়ে বে এবং ওয়ান চাই এলাকায় সমবেত হন বিক্ষোভকারীরা। তারা সরকারি বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন এবং ব্যানার উড়াতে থাকেন। খসড়া ওই আইন সম্পর্কে ২৫ বছর বয়সী ভিনসেন্ট বলেছেন, সরকারের বিরোধিতা করে কথা বললে বা কিছু প্রকাশ করলে তাকেই অপরাধী বানানো হতে পারে এই প্রস্তাবিত আইনে। তাই মুখে মাস্ক পরে বিক্ষোভে নেমে পড়েন কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থি।

কিন্তু তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে পুলিশ। আগে থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ আছে। তাতে লোকজনকে জমায়েত হওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে। গত বছর শেষের দিকে যে ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল হংকংয়ে রোববারের বিক্ষোভও সেই একই রকম ছিল। সে সময়ের মতো বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কেউ কেউ এ সময় কর্মকর্তাদের দিকে ছাতার মতো বস্তু ছুড়ে মেরেছে। গত বছর গণতন্ত্রের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ৮৩০০ মানুষকে।

কি আছে প্রস্তাবিত আইনে
প্রস্তাবিত আইনটি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এতে একটি অনুচ্ছেদ আছে, যেখানে বলা হয়েছে, হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা অবশ্যই উন্নত করতে হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, যখন প্রয়োজন হবে তখন সেন্ট্রাল পিপলস গভর্নমেন্ট হংকংয়ের ভিতরে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এজেন্সি স্থাপন করবে। আইন অনুযায়ী তারা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পূরণ করবে। এর অর্থ হলো, হংকংয়ের ভিতরে নিজস্ব আইন প্রয়োগকারী এজেন্সি দিয়ে কাজ করাতে পারবে চীন। সপ্তাহের শুরুর দিকে এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি এ আইনকে হংকংয়ের স্বাধীনতার মৃত্যুঘন্টা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এমনিতেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ এবং করোনা মহামারি নিয়ে সম্পর্কে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই আইন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তবে তিনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেন নি। ওদিকে রোববার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং লি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে জিম্মি করছে এবং এই দুটি দেশকে নতুন এক শীতল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এতে কয়েক দশক ধরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের যে সহযোগিতা তার যে ফল তা উল্টে দেবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সুবিধা। স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্বি হবে বিঘিœত।

এরই মধ্যে চীনের এমন আইন করার সমালোচনা জানিয়ে বিশে^র ২৩টি দেশের রাজনীতিকরা বিবৃতি দিয়েছেন। এর খসড়া করেছেন হংকংয়ের সাবেক গভর্নর ক্রিস্টোফার প্যাটেন এবং বৃটিশ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যালকম রিফকাইন্ড। এতে স্বাক্ষর করেছেন ১৮৬ জন পলিসি মেকার ও রাজনীতিক।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত