করোনা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে হামলার শিকার সিভিল সার্জন ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে

অনলাইন ১৯ মে ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:৩২

নাারয়ণগঞ্জে একটি রপ্তানী মুখী গার্মেন্টেসে করোনা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এসময় বিক্ষব্দু শ্রমিকরা তাদের দুটি গাড়ি ভাংচুর করে। এতে দুই গাড়ির চালকরা আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় অবস্থিত ফকির নিটওয়্যার গার্মেন্টের সামনে।
এদিকে শ্রমিকদের তান্ডবের পর মালিক পক্ষ চলতি মাসের ১৫দিনের বেতন ও পুরো ঈদ বোনাস দেয়ার দাবী মেনে নিয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ঈদ বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে ফকির নিটওয়্যার গার্মেন্টে। শ্রমিকদের দাবী বোনাস প্রদান নিয়ে মালিকপক্ষ টালবাহনা করছে। ২ মাস ধরে লকডাউনে কাজ করার পরেও হাফ বোনাস দিতে চাচ্ছে। এ বোনাস প্রত্যাখান করে শ্রমিকেরা দাবী জানিয়েছে কেউ হাফ কাজ করেনি পুরো সময় ধরেই কাজ করেছে।
তাই পুরো বোনাস দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা হতেই গার্মেন্টের অভ্যন্তরে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করতে থাকে এবং ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
ওইসময় করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের বিষয়ে বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ এবং জেলা করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ফকির নিটওয়্যার কারখানা পরিদর্শনে যান।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মালিক পক্ষের লোক ভেবে সিভিল সার্জন ও জাহিদুল ইসলামের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় সিভিল সার্জনের গাড়ির চালক সুরুজ্জামানের মাথা ফেটে যায় এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির চালক জালাল মিয়া আহত হন। এক পর্যায়ে শ্রমিকেরা ডা. জাহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তবে সিভিল সার্জন তাঁর গাড়ি নিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক টিম গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করে জাহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করেন।
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, ফকির নিটওয়্যারে ১০ জন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই কারখানায় কেন করোনা রোগী বাড়ছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা হচ্ছে কি না সেটি দেখার জন্য তাঁরা পরিদর্শনে যান। কিন্তু হঠাৎ করে পোশাক শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। আমার ও জাহিদুল ইসলামের গাড়ি ভাঙচুর করেন।আমি কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জাহিদুল ইসলাম আটকা পড়ে আছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল ইসলাম পিপিএম (বার) বলেন, মূলত বেতন ও বোনাসের দাবিতে ওই কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেখানে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে। এবং হামলার শিকার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের নেতৃত্ব দেয়া গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানান, অবশেষে মালিক পক্ষ চলতি মাসের ১৫দিনের বেতন ও পুরো ঈদ বোনাস দেয়ার দাবী মেনে নিয়েছে। গার্মেন্টসটিতে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক রয়েছে। এরমধ্যে বিক্ষুদ্ধ কিছু শ্রমিক অতি উৎসাহিত হয়ে না বুঝে জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি ভাংচুর করায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেছি। শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ আমরা আশা করিনি।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

ঈশ্বরগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

৩০ মে ২০২০

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুকুরে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে পুকুরের পানিতে ভেসে ...



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত