চীনে ‘হান্তা ভাইরাস’ সংক্রমণে মৃত ১, যা জানা প্রয়োজন

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৩

পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, চীনে তখন ভাইরাসটির প্রকোপ কমে এসেছে। তবে নিস্তার মিলছে না দেশটির কর্তৃপক্ষের। সোমবার দেশটিতে ‘হান্তা ভাইরাস’ নামে এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এক টুইটে জানিয়েছে, ইউনান প্রদেশে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি একটি চার্টার্ড বাসে করে শানদং প্রদেশে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বাসের মধ্যেই তার মৃত্যুই হয়। পরীক্ষা করে তার মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়।
গ্লোবাল টাইমস আরো জানায়, ওই বাসটিতে আরো ৩২ জন যাত্রী ছিল।
তাদের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।

হান্তা ভাইরাস কী ও এর উপসর্গ
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানিয়েছে, হান্তা ভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণির মাধ্যমের ছড়ানো একগুচ্ছ ভাইরাস। এতে হরেক রকমের রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হান্তা ভাইরাস অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে একেক জায়গায় একেক নামে পরিচিত। যেমন, ইউরোপ  ও এশিয়ায় এটি ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড’ হান্তা ভাইরাস নামে পরিচিত। অন্যদিকে, আমেরিকার এটি ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’ হান্তা ভাইরাস নামে পরিচিত। ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’ হান্তা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে, ফুসফুসজনিত সমস্যা দেখা দেয় (এইচপিএস)। এক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে অবসাদ, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা, বিশেষ করে উরু, মাজা, পিঠ ও কখনো বাহুতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, কেউ কেউ মাথাব্যথা, মাথাঘোরা ও পেটের নিম্নভাগে সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার চার থেকে ১০ দিন পর কাশি ও শ্বাকষ্ট হতে পারে। এতে অনেকের মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড’ হান্তা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হেমোরেজিক জ্বর ও বৃক্কজনিত সমস্যা (এইচএফআরএস) দেখা দেয়। এক্ষেত্রে রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার প্রথম এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে আট সপ্তাহ পরে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তীব্র মাথাব্যথা, পিঠ ও পেটের নিম্নভাগে ব্যথা, জ্বর, শীত শীত ভাব, বমিভাব ও চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। পরবর্তীতে, নিম্ন রক্তচাপ, ভাস্কুলার লিকেজ ও কিডনি ফেইলারের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ভাইরাসটি কি নতুন?
না। এর আগে ২০১২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্লোবাল টাইমস অনুসারে, এই বছর ভাইরাসটিতে সেখানে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছিল। সিডিসি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে। দেশটির চারটি রাজ্য- নিউ মেক্সিকো, আরিজোনা, কলোরাডো ও উটাহ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ভাগ করা একটি অঞ্চলে এক ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এটি কি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়?
না। হান্তা ভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত এতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম ও বিচ্ছিন্ন। এটির মহামারী পর্যায়ে বিস্তার লাভের ঘটনা জানা যায়নি। সিডিসি অনুসারে, সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেখানে এই ভাইরাসের বাহক ইঁদুরগুলোর বাস করে, সেসব এলাকায় এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

এই ভাইরাসে মানুষ যেভাবে আক্রান্ত হয়
সিডিসি অনুসারে, ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, লালা ও বিষ্ঠার মাধ্যমে ভাইরাসটি (এইচপিএস) ছড়িয়ে থাকে। মূলত এসবের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে গেলে ও সে বাতাস নিঃশ্বাসে নিলে মানুষ ভাইরাসটি মানুষের দেহে বিস্তার করে। এছাড়া, ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ইঁদুরের কামড় খেলেও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত কোনোকিছু হাত দিয়ে ধরে সে হাত মুখে স্পর্শ করলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে এটি বিস্তার লাভের কোনো প্রমাণ নেই। এখন পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ায় এর অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

চিকিৎসা
ভাইরাসটির কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি। এর কোনো টিকা নেই। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিৎ। এতে ভাইরাসটির প্রভাবে সৃষ্ট নানা সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। যেমন, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কিডনী ফেইলার ইত্যাদি জটিল সমস্যার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Sunny

২০২০-০৩-২৫ ১৮:০৬:৫২

Hanta virus is not a new virus in India and China. It was discovered first time during 1970s. Vaccinations are also invented years ago. Please don't spread rumours and panics through national media.

Quazi M. Hassan

২০২০-০৩-২৫ ০৯:১১:১৭

new attack

আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



জেরুজালেম পোস্টের খবর

করোনা চিকিৎসায় শতভাগ সফলতা!