প্রচারণার মাঝেই আদালতে হাজিরা দিলেন ইশরাক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১২

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা যখন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন প্রচারণার মাঝে আদালতে হাজিরা দিলেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ২০১০ সালের ২৯শে আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আদালতে হাজিরা দেন  তিনি। এ মামলায় গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির হন ইশরাক। হাজিরা শেষে বেলা একটায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ষষ্ঠ দিনের প্রচারণা শুরু করেন তিনি। পরে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক নিয়ে হাজারীবাগ, জিগাতলা এলাকায় প্রচারণা চালান তিনি।

এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়তো সব দলের নেতা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা হয়েছে। এই সরকার আসার পর তাদের এবং তাদের পরিবারের মামলাগুলো গায়েব করে দিয়েছে। আর আমরা যারা বিএনপি করি তাদের মামলাগুলো সক্রিয় রেখেছে।

গত জাতীয় নির্বাচনে আমি যখন নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন কিনেছিলাম তখন থেকে এটা নিয়ে নড়াচড়া শুরু করে দেয়া হয়েছে।
এসব কোন বিষয় না। রাজনীতি করবো আর মামলা হবে না, জেল হবে না, এটা কী করে হয় বাংলাদেশে। এই মামলাটিই করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। ২০০৮ সালে আমাকে একটা নোটিশ দেয়া হয়েছিল আমার সকল উইল স্ট্যাটম্যান্ট দেয়ার জন্য। তখন আমি ছাত্র ছিলাম। আর পড়াশোনার জন্য আমি বাইরে ছিলাম। এই নোটিশ সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। সেটার জন্যই মামলা দেয়া হয়েছে। আমি যাতে এর জবাব দেই। এখন আবার এসে তারা এই মামলা নাড়াছাড়া করছে। আমি বলবো, এই মামলা করে লাভ নেই। আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না। এসব বাধা আমি কোন বাধা মনে করি না।

এই মামলার কারণে অন্য মেয়রপ্রার্থী যদি এটা নিয়ে কোন অপপ্রচারণা করে, এতে কোন সমস্যা হবে বলে মনে করেন কি-না এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, আজকে আমি এই মামলায় একটা হাজিরা দিয়েছি। এই মামলা দায়ের হয়েছে ২০১০ সালে। নোটিশ জারি হয়েছে ২০০৮ সালে। এই মামলাতো নতুন নয়। আমি আমার হলফনামায়তো উল্লেখ করেছি যে, আমার এই মামলা আছে। আর দুদকের মামলাতো এখন সরকারদলীয় নেতা যারা আছেন তাদের অনেকের নামেই আছে। তারা এগুলো গায়েব করে ফেলেছে। আর আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামেও ভূয়া মামলা দেয়া হয়েছে। তাই আমি বলি, এতে নেতিবাচক হওয়ার কিছুই নেই।
প্রচারণা কালে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পোস্টার লাগাতে বাঁধা দেয়া এবং কর্মীদের মারধর ও পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণ বিধি মানছে না। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আমরা প্রতিদিনেই অভিযোগ করছি। কিন্তু কমিশন থেকে কোন উদ্যোগ দেখছি না। এটা লেভেল প্লেয়িং-এর নমুনা হতে পারে না। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ। মুসলমানদের ঈদের দিন এমন একটি আয়োজন হলে আমাদেরও খারাপ লাগতো। তবে যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই এ ব্যাপারে নিয়ে চূড়ান্ত কোন মন্তব্য করতে চাইনা।

মেয়র প্রার্থী ইশরাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। গতকাল ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ অভিযোগ গঠন করেন। আদালতের অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন। তার আইনজীবী মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু বিচারক অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

২০১৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। এরপর ২০১৯ সালের ৫ই মে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এ দিন ইশরাক আদালতে উপস্থিত না থাকায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়। একই বছরের ৪ই সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিশটি জারি করতে তাদের বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক হোসেন সেখানে উপস্থিত না থাকায় বাসভবনের নিচতলায় প্রবেশ পথের বাম পাশের দেয়ালে ঝুলিয়ে নোটিশটি জারি করেন। কিন্তু দুদকের দেয়া ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইশরাক হোসেন সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল করেননি। এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯শে আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

এনু-রূপনের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, ৫ কোটি টাকার এফডিআর, ১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

এ যেন বাড়ি নয়, ব্যাংক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্যাংককে দুই অ্যাকাউন্ট

পাপিয়ার ডেরায় যাওয়াদের তালিকা দীর্ঘ

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পাপিয়ার মদতদাতাদের খোঁজা হচ্ছে

আলোচনায় সেলিম প্রধান

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পিবিআই প্রতিবেদন

সালমানের মৃত্যু নেপথ্যে প্রেম

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়?

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

করোনা ছড়াচ্ছে দেশে দেশে

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মুজিববর্ষ

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বক্তা প্রণব মুখার্জি

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



পাপিয়ার মদতদাতাদের খোঁজা হচ্ছে

আলোচনায় সেলিম প্রধান

ব্যাংককে দুই অ্যাকাউন্ট

পাপিয়ার ডেরায় যাওয়াদের তালিকা দীর্ঘ

এনু-রূপনের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, ৫ কোটি টাকার এফডিআর, ১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

এ যেন বাড়ি নয়, ব্যাংক