দুর্নীতি মুক্ত হলে দেশ আরো এগিয়ে যেতো

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে পারলে আরো এগিয়ে যেতো। দুর্নীতি মুক্ত করা গেলে দেশ শোষণমুক্ত সোনার বাংলা হবে। তিনি বলেন, একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। দেশের নাগরিকদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব জাগ্রত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি প্রথম থেকেই দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব যেমন নকলমুক্ত থাকা, প্রক্সি না দেয়া, ভর্তিবাণিজ্যের মতো অনৈতিকতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাহলে তারা দুর্নীতি করবে না, অন্যকে দুর্নীতি করতেও দিবে না। ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠলে বাংলাদেশ একদিন দুর্নীতিমুক্ত হবেই। গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সততা সংঘ আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. আনিসুজ্জামান বলেন, তোমরা দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাও এবং নিজেরা শপথ করো।
আজকের এই দুর্নীতিবিরোধী শপথ ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিভাত করো। একই অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মাধ্যমে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। আমি জাতির পিতাসহ মহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর  শ্রদ্ধা নিবেদন  করে বলছি,  দুর্নীতির কারণেই তাদের আশা-আকাঙ্খা আমরা পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। ৪৮টি বছর ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম চলছে। এটা লজ্জার।  শুধু দুদকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান একা যুদ্ধ করে দুর্নীতি হয়তো কাঙ্খিতমাত্রায়  বন্ধ করতে পারবে না, তবে আমাদের আশার আকাঙ্খার প্রতীক হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের এইসব শিক্ষার্থীরা, যারা ২০৩০ সালের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। মাত্র গুটিকয়েক মানুষের দুর্নীতির কাছে আমাদের পরাজয়ের কোনো সুযোগ নেই। এই লড়াইয়ে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, আইনজীবী, মিডিয়া সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতিবাজদের পরাভূত করা হবে। এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। দুর্নীতিবাজদের আইনের মুখোমুখি করা হচ্ছে এবং করা হবে। ঘুষখোর-মুনাফাখোর-দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পদ ভোগ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশ থেকে বিদেশে পালিয়েও রক্ষা পাবেন না। দেশে-বিদেশে সর্বত্রই দুদক তাদের পিছু ছাড়বে না। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। জাতির পিতার স্বপ্নের শোষনহীন বৈষম্যহীন তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের নিরন্তর সংগ্রাম চলছে চলবে। দুদক চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,  তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও  দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত সরকারি পরিষেবা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। তোমরাই নেতৃত্ব দিবে শোষনহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্‌ত প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সফিরল আজম

২০১৯-১২-০৯ ১৩:৪০:২২

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়া বাংলাদেশের জন্য মোটেই অসাধ্য কিছু না। এ বিজয়ের মাস তো অদম্য বাংগালীদেরই অর্জন। প্রয়োজন শুধু দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দৃপ্ত শপথ নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী চেতনাকে সবকিছুর উর্ধে স্থান দিয়ে একাত্ম হওয়া। দেশ বাঁচাতে হলে এর বিকল্প নেই।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

৫০ ভোটকেন্দ্র নিয়ে শঙ্কা

২০ জানুয়ারি ২০২০

নারীবান্ধব শহর গড়ে তুলবো

২০ জানুয়ারি ২০২০

ভোটের লড়াইয়ে জিততে হবে

২০ জানুয়ারি ২০২০

ভোটাররাই আমার অভিভাবক

২০ জানুয়ারি ২০২০

কূটনীতি

ঢাকায় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন প্রস্তুতি এবং...

২০ জানুয়ারি ২০২০

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়

বুঝতে পারছি না কেন তারা এটা করলো

২০ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা সিটিতে ভোট ১লা ফেব্রুয়ারি

পিছু হটলো নির্বাচন কমিশন

১৯ জানুয়ারি ২০২০





প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত