মিট দ্য প্রেসে দুদক চেয়ারম্যান

শুদ্ধি অভিযানে নাম আসা কাউকে ছাড় নয়

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৪

শুদ্ধি অভিযানে নাম আসা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে এ কথা জানান তিনি। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির দুর্নীতির চিত্র সামনে আসে। একই সময়ে দুদকও অনুসন্ধান শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শুদ্ধি অভিযানে নাম আসা প্রভাবশালী, রাঘববোয়াল কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মিট দ্য প্রেসের আলোচনার শুরুতে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের ফাঁদ মামলার কারণে সরকারি অফিসে ঘুষের প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে আমরা মনে করছি। তবে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে না, আমরা তা বলবো না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ঘুষের মাত্রা কমেছে।
মানি লন্ডারিং প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় শতভাগ শাস্তি হয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং মামলা দুদক থেকে নিয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সিআইডিকে মামলা করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিআইডি মানি লন্ডারিং বিষয়ে ৬০-৭০টি মামলা করেছে, এনবিআর করেছে মাত্র এক থেকে দুটি। অথচ এনবিআরের সবচেয়ে বেশি মামলা করা উচিত। আমাদের ধারণা ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ক্যাপিটাল গুডস আনার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্ব পাওয়ার পরও মানি লন্ডারিংয়ে মামলা না করে আমরা তাদের নজরদারির মধ্যে রাখব। তিনি বলেন, অবৈধ অর্থই কেবল মানি লন্ডারিং হচ্ছে, এটা প্রাইভেট সেক্টরে হোক আর সরকারিভাবে হোক তা মানি লন্ডারিং। কারণ হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করা সম্ভব নয়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ট্রেড বেইজড মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি টাকা পাচার হচ্ছে। কারণ এই পথে লিগ্যালি টাকা বিদেশে যাচ্ছে। অবৈধ সম্পদ কোথায় যাচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। দুদকে অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে দুদক খুবই সতর্ক। চলতি বছরে দুদকে লিখিত অভিযোগই এসেছে ২২ হাজার ২শ ৩৬টি। এরমধ্যে ৩ হাজার  অভিযোগের ওপর অনুসন্ধান চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কেউ যদি বেশি দামে পিয়াজ বিক্রি করে থাকে তা দেখা দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটা দেখবে শুল্ক গোয়েন্দা। তবে তাদের কাছ থেকে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় যে কেউ বেশি দামে পিয়াজ বিক্রি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হচ্ছেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। নিয়ন্ত্রণহীন পিয়াজের বাজারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমরা শুধু সেটা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশ্ন উত্তর পর্বের এক পর্যায়ে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ইস্যুটি সামনে আসে। এসময় গত ১৪ই অক্টোবর সরকারি দলের এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যের সূত্র ধরে সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করেন, বেসিক ব্যাংকের তদন্তাধীন অনুসন্ধান তথা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে কেন আসামি করা হচ্ছে না? জবাবে ইকবাল মাহমুদ তাপসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বাচ্চুর নাম কেমনে বলছেন, আপনি কে? আপনি কি ইনভেস্টিগেশন করছেন? কে কি বলছে দ্যাট ইজ নট আওয়ার কনসার্ন। এটা একটা পাবলিক ইন্সটিটিউশন। আপনি আমার পদত্যাগ চাইতে পারেন, অনেক কিছুই চাইতে পারেন, সেটা সমস্যা না। কিন্তু আপনি কে, যে প্রশ্ন করছেন বাচ্চুর নাম আসছে, কী বাচ্চুর নাম আসেনি? এটা তো আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। বাচ্চুর নাম আসবে না আপনি জানেন কেমনে? হু আর ইউ? ইনভেস্টিগেশন করার ম্যান্ডেট তো আমাদের, ম্যান্ডেট তো আপনার না। আপনি রিক্রিয়েট করলে তো হবে না বাচ্চুর নাম দেন বা দিয়েন না। সে যেই হোক না কেন, কারো কথা আমরা কেয়ার করি না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ইনভেস্টিগেশন শেষ হলে যখন চার্জশিট যাবে, তখন আপনি বলতে পারেন, এটাকে নারাজি দেয়া যায়, আরো প্রসেস আছে। আমরা যদি ভুল করি সরকার, ব্যাংক তখন নারাজি দিতে পারবে। কিন্তু আমার মনে হয় না এই ক্ষেত্রে আমরা কোনো ভুল করব। এটা জনগণ বিশেষভাবে জানে, তাই আমরা বিশেষভাবে কেয়ারফুল। যখন আমরা রিপোর্ট দেব, এতো সহজে এটা নিয়ে আপনাদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেব না। মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং এসব মামলার অভিযোগপত্র তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনে জমা দিয়েছিলেন জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ৫৬টি মামলা মোটামুটি একই ধরনের। এসব মামলায় যাদের এফআইআরে আসামি দেখানো হয়েছিল তারা প্রায় এদিক-সেদিক করে এসেছে। ওই রিপোর্ট আমরা গ্রহণ করিনি। রিপোর্ট যখন আসলো, সমস্যা হয়ে গেছে।  আমি দেখলাম যে, মানি কোথায় গেল? সেই তথ্য না দিয়ে আপনি যদি চার্জশিট কোর্টে দাখিল করেন, তাহলে এটি আমাদের জন্য বোকামি হবে। তিনি আরো বলেন, একজন তদন্ত কর্মকর্তা যখন সেই টাকা কোথায় গেছে তা না দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন তাহলে তা গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাগুলো শতভাগ শাস্তি হওয়া উচিত।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩০-৪০ ভাগ মামলায় শাস্তি হচ্ছে না, অর্থাৎ আমাদের দুর্বলতা আছে। হয় ইনভেশটিগেশনে, না হয় প্রসিকিউশনে অথবা কোথাও কোনো মিসিং লিংক আছে। সেটি আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু থিউরিটিক্যালি দুর্নীতির প্রতিটি মামলায় শাস্তি হওয়া উচিত। বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির টাকা বিভিন্ন দেশে চলে গেছে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, টাকার শেষ গন্তব্য বের করতে না পারায় অনুমোদন দেয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির টাকা মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তা খতিয়ে দেখতে কয়েকটি দেশে এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ?্যাসিস্ট্যান্টস রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। ওই সব দেশ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে মামলাগুলোর চার্জশিটের অনুমোদন দেয়া হবে। সাংবাদিকদের সংগঠন- রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্‌ত, র‌্যাক সভাপতি মোর্শেদ নোমান ও সাধারণ সম্পাদক আদিত্য আরাফাতসহ অনেকে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুন্নয়ন খাতের ব্যয়

৫ বছরে বেড়েছে ২,৪২১ কোটি টাকা

১৮ জানুয়ারি ২০২০

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

সেই ১১ শিক্ষার্থী মামলার বেড়াজালে

১৮ জানুয়ারি ২০২০

অনশনে অসুস্থ ৯ শিক্ষার্থী

১৮ জানুয়ারি ২০২০

অন্যরকম প্রতিবাদ

১৭ জানুয়ারি ২০২০

অনশনে শিক্ষার্থীরা

১৭ জানুয়ারি ২০২০

ছাত্রদলের বিক্ষোভ

১৭ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত