বেনাপোলে কাস্টমসের ভোল্ট ভেঙে স্বর্ণ চুরি আটক ৫

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৮
যশোরের বেনাপোল কাস্টম হাউসের ভোল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে স্বর্ণ চুরি গেলেও ডলার ও টাকা-পয়সা খোয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গত সোমবার রাত ১১টায় বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনা উদ্ঘাটনে পোর্ট থানাসহ র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভোল্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা 
ভোল্ট ইনচার্জ শাহাবুল সর্দারসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের ২০ কেজি স্বর্ণ চুরি যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যার বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার, শনিবার ও রোববার ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি থাকায় কেউ অফিসে ছিলেন না।
সোমবার সকালে অফিস খুললে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। চুরির ঘটনায় কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে ভোল্ট ইনচার্জ শাহাবুল সর্দারসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার এসএম শামীমুর রহমান জানান, পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় একটি কক্ষের তালা ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। সেই কক্ষে রক্ষিত লোহার ভোল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভোল্টে মূল্যবান আরও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, ডলার ও টাকা থাকলেও শুধু ২০ কেজি স্বর্ণ নিয়ে যায় তারা। ভোল্ট ভাঙার আগে দুর্বৃত্তরা সিসি ক্যামেরার সবগুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ভোল্টে কাস্টম, কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা, বিজিবি ও পুলিশের উদ্ধার করা স্বর্ণ, ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ মূল্যবান দলিলাদি ছিল। সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ওই ভোল্টের তালা ভাঙা দেখে চুরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করেন কাস্টম কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কাস্টমের কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। তারপর ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাইরের কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

বিকাল ৫টার দিকে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানার কর্মকর্তারা ওই ভোল্ট রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে হাত-পায়ের ছাপসহ আলামত সংগ্রহ করা হয়। আলামত সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম-কমিশনার শহিদুল ইসলাম, ডিএসবির এএসপি তৌহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক সৈয়দ মামুন হোসেন, র‌্যাব জেলা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, আতিকুর রহমান, এআরও জিএম আশরাফ, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান প্রমুখ। তারা যৌথভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। তবে, কাস্টম হাউসে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এ ধরনের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সব মহলে। কাস্টম হাউসে নিজস্ব সিপাইসহ আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিটও নিরাপত্তার কাজে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গাম্বিয়াকে সব ধরণের সমর্থন দেবে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম

রেকর্ড

সেই ক্যারিশমা তিনি ব্যয় করছেন জেনারেলদের পেছনে

রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার আশা থাকছে

বিপণি বিতানে ছাড় দিয়ে বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা

দুর্নীতি মুক্ত হলে দেশ আরো এগিয়ে যেতো

অজয় রায় আর নেই

অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দিনে সরকারি, রাতে বেসরকারি

কোনো শিশু ও নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়

সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

‘উগ্রবাদ দমনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে’

‘দিল্লি সফরে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতেই আলোচনা হবে’

মাদক মামলায় সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে: ফখরুল

বাজি ধরে সড়কে প্রাণ গেল ২ জনের