বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান থেকে

বাংলাদেশ নয় মালদ্বীপে পিয়াজ পাঠাচ্ছে ভারত

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮
বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি না করলেও মালদ্বীপকে অব্যাহতভাবে পিয়াজ সরবরাহ করে যাবে ভারত। নিজেদের দেশে পিয়াজের সংকট থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। রোববার  মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক টুইটে পিয়াজ রপ্তানির কথা নিশ্চিত করেছে। বলেছে, নিজের দেশে মারাত্মক সংকট এবং মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি করছে ভারত। তা সত্ত্বেও মালদ্বীপকে পিয়াজ দেয়া অব্যাহত রাখা হবে। কেবল পিয়াজ নয়, মালদ্বীপে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য রপ্তানিই অব্যাহত রাখবে ভারত। উল্লেখ্য, দেশে চলমান সংকট সামাল দিতে আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক ও মিসর থেকে পিয়াজ আমদানি করছে ভারত।
ভারতের খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান রোববার জানিয়েছেন, দেশে চলমান ঘাটতি সামাল দিতে ১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।
পিয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতিও। উল্লেখ্য, ভারতে পিয়াজের মূল্য রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত। এজন্য সরকারের পতনও হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের জন্য জনসম্মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেন। ভারত থেকে পিয়াজ না আসায় বাংলাদেশকেও অন্যান্য দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। শেখ হাসিনা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে রসিকতা করে বলেছিলেন, একটা সমস্যা আছে। আপনারা পিয়াজ পাঠাচ্ছেন না, তাই আমি পিয়াজ ছাড়াই (খাবার) খাচ্ছি।
পাকিস্তান থেকে ৩০০ টন পিয়াজ আসছে বাংলাদেশে: এবার পাকিস্তান থেকে পিয়াজ আসছে। ৩০০ টন পিয়াজ আমদানির এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে। তা চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়বে কেজি প্রতি ৫৫-৫৭ টাকা। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবর, কমপক্ষে ১৫ বছর পর বাংলাদেশের কাছ থেকে পিয়াজ রপ্তানির আদেশ পেয়েছে  পাকিস্তান। করাচি ভিত্তিক রোশান এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ঢাকার তাসো এন্টারপ্রাইজের মধ্যে ৩০০ টন পিয়াজ রপ্তানির চুক্তি হয়েছে সমপ্রতি। ট্রেড ভেলপমেন্ট অথোরিটি অব পাকিস্তানের (টিডিএপি) এক কর্মকর্তা খবরটি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। ওই কর্মকর্তা বলেন, অর্ডার মতে প্রতি কন্টেইনারে ২৮ টন করে কমপক্ষে ১২ কনটেইনার পিয়াজ বাংলাদেশে যাবে। পরবর্তীতে আরও রপ্তানি আদেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবারও বাড়লো পিয়াজের দাম: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পিয়াজের বাজারে প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক দিনে বাজারে দাম কিছুটা কমলেও গত দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে দাম। গতকাল বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে, পিয়াজের সঙ্কট কাটাতে এবার পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কিছু পিয়াজ আমদানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক দিন পিয়াজ আমদানি বন্ধ ছিলো। তাই সরবরাহ কমে যাওয়ায় পিয়াজের দাম বেড়ে গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড়ের অজুহাতে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পিয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। কারওয়ান বাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে বাজারে ভারতীয় পিয়াজও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের আগে দেশি পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর মিসর ও চীন থেকে আমদানি হওয়া পিয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের আগে এই পিয়াজ কেজিপ্রতি ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আনোয়ার এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন ও তার সহকারী সেলিম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পিয়াজ আমদানি বন্ধ ছিলো। তাই বাজারে পিয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন মিসর, তুরস্ক, চীন এবং পাকিস্তান থেকেও পিয়াজ আমদানি হচ্ছে। এতে সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। তিনি জানান, মিসর থেকে আমদানিকৃত পিয়াজ পাইকারী দরে কেজিতে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পিয়াজ পাইকারী ১২০ টাকায় বিক্রি  হচ্ছে। পিয়াজের খুচরা বিক্রেতা জুয়েল জানান, আমরা মিসরীয় পিয়াজ ১১০ টাকা দরে কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি করছি। এর বেশি লাভ করার সুযোগ নেই। কারণ বাজারে এমনি সব ধরনের পিয়াজের দাম বেশি। এছাড়া বাজারে ক্রেতাও কম। দাম বাড়লেই যে আমাদের লাভ বেশি হবে তাতো নয়। কিন্তু অনেক ক্রেতা আমাদের সঙ্গে এমনভাবে দামাদামি করে যে, যেন আমরা পিয়াজের দাম বাড়িয়েছি। অথচ দাম বাড়লে আমাদেরও ব্যবসা করতে সমস্যায় পড়তে হয়। পুঁজি বেশি লাগে কিন্তু লাভ বেশি হয় না। আমরাও চাই পিয়াজের দাম কমুক।
দেশি পিয়াজ বিক্রি করছেন সুমির। তার দোকানে টাঙ্গানো রয়েছে পিয়াজের মূল্য তালিকা। লেখা আছে দেশি পিয়াজ ১৩০ টাকা। দাম জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান ১৪০ টাকা। তিনি বলেন, ১৩০ টাকা আগের মূল্য। এখন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মামুন নামের একজন ক্রেতা বলেন, সুযোগ বুঝে বিভিন্ন অজুহাতে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পিয়াজের দাম বাড়িয়েছে। শুধু এই ঘূর্ণিঝড় নয়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টিতে সরবরাহ কমার অজুহাতে তারা পণ্যের দাম বাড়ায়। তাদের কাছে আমরা অসহায়। সরকার চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ইলিয়াস নামের আরও একজন ক্রেতা জানান, সুযোগ বুঝে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা শুধু পিয়াজের ক্রেত্রে নয়, আমাদের দেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, আড়তদার, কমিশন এজেন্ট, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কখনও সাধারণ ক্রেতাদের শান্তিতে থাকতে দেয় না। পবিত্র রোজার মাস, কোরবানির ঈদের সময়েও একশ্রেণির ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায়। পিয়াজের ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Firoze Hassan

২০১৯-১১-১২ ১৪:৪৭:০৮

I did not understand that.we used to spend all of our youth in india,but gave onion to maldive! Honesty.................................... is there any answer to that?

Salim Khan

২০১৯-১১-১২ ১৪:২৯:১৯

যাদেরকে আমরা বন্ধু বলতে বলতে মুখের থুথু বের করে ফেলি, তাদের পিয়াজ যায় মালদ্বীপ, আর যাদের নাম ও সহ্য করতে পারি না তাদের পিঁয়াজে আমরা চলি। আমাদের লজ্জা থাকা উচিৎ।

নামে কি যায় আসে

২০১৯-১১-১১ ২১:১৯:৫০

আজ থেকে সবাই ভারতের পণ্য বর্জন করুন

Mohammed Sahadat

২০১৯-১১-১২ ১০:১৭:১৮

কে কার বন্ধু এখন সেটা দিবালোকের মত পরিষ্কার

Kazi

২০১৯-১১-১১ ১৫:১৩:৪৫

কোন একটি দেশের উপর নির্ভরশীলতা মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ঐ দেশে খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে রপ্তানি বন্ধ করবেই। তাই মূল্য যাচাই করার জন্য বিভিন্ন দেশের অনুসন্ধান ও চুক্তি করা উচিৎ। দেশে উৎপাদন ভাল হলে আমদানি বন্ধ থাকবে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে দোষারোপ করার মানে নাই।

ahammad

২০১৯-১১-১১ ১৪:২৫:৫২

ছমৎকার সে ছমৎকার। হুজুরের মতে অমৎকার। ছমৎকারতো হতেই হবে। কথায় বলে এক হাতে তালীবাজেনা। কিন্তু আমরা বাজিয়ে যাচ্ছি। আমরা বলি ভারত আমাদের পরিখ্খিত বন্দু । আসলে এটাইকি বন্দুর প্রতিদান ?? গত জীবনে আমরা তাদেরকে গত ৫০ বৎসরে অনেক কিছুই দিয়েছি , কিন্তু পেলাম কি ?? শুধু আশ্বাস আর সীমানতে লাশ। জাতী তথা জ্ঞানীগুনি জনদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন গুলা বিবেচনার জন্য আরজ করলাম। জনিনা আমার আরজি সকলের কাছে পৌছাবে কিনা ????

আপনার মতামত দিন

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তাল উত্তর-পূর্ব ভারত

আমরা একটি ফেয়ার এন্ড ভ্যালেন্সড সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই

দেশে আজ মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই: ফখরুল

মুসলিমদের বাদ রেখে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে ভারতে বিতর্ক, বিক্ষোভ, ধর্মঘট

শহীদ মিনারে অজয় রায়কে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, মরদেহ দেয়া হবে বারডেমে

আবারও মিয়ানমারের পাশে থাকার অঙ্গীকার চীনের

ময়মনসিংহে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগ

পুলিশী বাধায় বিএনপির র‌্যালি পণ্ড

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির সামরিক বিমান নিখোঁজ

আশুলিয়ায় কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত

পুলিশ পরিচয়ে প্রেম, বিয়ে, অতঃপর...

প্রেমিকার অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে, যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ই চূড়ান্ত, মানতে বাধ্য বিশ্ব: রেজিস্ট্রার

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত, ইয়াবা-অস্ত্র উদ্ধার

‘দর্শককে জোর করে হাসানোর প্রতিযোগিতা চলছে’