ফেসবুকে বাংলা কনটেন্ট ফিল্টারিং চায় ঢাকা

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২
ফেসবুকে উত্তেজনাকর এবং ক্ষতিকর বাংলা কনটেন্ট বা পোস্ট -এর নিয়ন্ত্রণ দেখতে চায় ঢাকা। বাংলাদেশ মনে করে কেবল একটি দেশের জন্য নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের কল্যাণ তথা বৈশ্বিক শান্তির জন্য কনটেন্ট ফিল্টারিং ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। রাজধানীতে গতকাল থেকে শুরু হওয়া ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’ এর উদ্বোধনী দিনের এক সেশনে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ‘ই-রেগুলেইট: টুওয়ার্ডস এ ডিজিটাল কমিউনিটি ফর দ্য বে অব বেঙ্গল’ শীর্ষক সেশনে প্যানালিস্ট হিসেবে
ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ভারত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেসবুকের পলিসি ডিরেক্টর আঙ্কি দাস, ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব প্রাইভেসি প্রোফেশনালস -এর কর্মকর্তা দামিয়ান মাপে, ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড এআই রিসার্চ কলাভরেটিভ এর প্রজেক্ট লিড আমানদিপ গিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠান ভারতের অবজারভার ফাউন্ডেশনের চেয়ার সমির শরণ।

আলোচনায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ভোলায় ঘটে যাওয়া সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা রোধে ফেসবুক কিভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে জানতে চান। পরবর্তীতে উন্মুক্ত সেশনে পুলিশের আইসিটি ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার হারুন-উর রশিদও ভোলার ঘটনার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশে ফেসবুক পোস্টের কারণে যেসব ঘটনা ঘটেছে উদ্বেগের সঙ্গে তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ফেসবুক পাবলিক পলিসি ডিরেক্টরের কাছে তিনি জানতে চান এসব ক্ষতিকর বাংলা পোস্ট ঠেকাতে তারা আদতে কী ভাবছেন? ফেসবুক তার ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কতটা সচেতন? সেই প্রশ্নও আসে।

জবাবে ফেসবুকের প্রতিনিধি এমন ঘটনার জন্য দু:খপ্রকাশ করে বলেন, অবশ্যই আমরা এ নিয়ে সচেতন আছি। বাংলা কনটেন্ট ফিল্ডারিংয়েও তারা যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন জানিয়ে এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার তথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফেসবুকের তরফে সব সময় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকারও  করেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মুক্তচিন্তা, মত প্রকাশ এবং মানুষের বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তার সরকার।
কিন্তু ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, কোন কনটেন্ট বা পোস্ট প্রচার করে কেউ যেন ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ না হয় এ ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক কতৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সহায়তা পাওয়ার কথাও স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এমন এক সময় ঢাকায় ফেসবুকের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে ওই ডায়ালগ হলো, যখন বাংলাদেশ সরকার ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির নানা বার্তা দিচ্ছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তরফেও দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্নমুখি ‘যন্ত্রণা’র অভিযোগ করা হচ্ছে। ঢাকা ডায়ালগে এর কিছুটা ওঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের তরফে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে, নিরাপদ ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারে লক্ষ্য। তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেশী সংখ্যক  মানুষ যাতে ইতিবাচকভাবে এটি ব্যবহার করতে পারেন সেটাই চায় সরকার। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকগুলো ঠেকাতেও সরকারকে সজাগ থাকতে হচ্ছে সঙ্গত কারণেই। কারণ নানা ঘটনা ঘটছে। অপরাধী-উগ্রপন্থিরা যাতে এটি ব্যবহার করে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সক্রিয় রয়েছে। মানুষের বাক স্বাধীনতাহরণ বা নিয়ন্ত্রণ সরকারের উদ্দেশ্য নয়।

ঢাকা শহরেই পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেসবুক ইউজার: বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত আছে। তবে আন্তর্জাতিক সব জরিপ অনেক আগেই বলেছে, পৃথিবীর যে সব শহরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী তার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উই আর সোশাল’ এবং কানাডাভিত্তিক ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান হুটস্যুইট-এর যৌথ জরীপ মতে, ঢাকায় সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ। অভ্যন্তরীণ নানা জরিপ সূত্রে সরকারের তরফে যেটা বলা হয়, তা হলো- এ সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশে এখন ৩ কোটির বেশী মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। শুধু ফেসবুক নয়, প্রায় ৮ কোটির বেশী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে তার মধ্যে ক্ষতিকর কন্টেন্ট বা পোস্ট ছড়ানো অ্যাকাউন্টও রয়েছে। সরকার যখন গুরুতর অভিযোগ পায় তৎক্ষনাৎ তা বন্ধে উদ্যোগী হয়।

ক্ষতিকর পোস্ট ও কনটেন্ট ঠেকাতে সরকার যেভাবে কাজ করে: বাংলাদেশ সরকারের তরফে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নানাভাবে মনিটরিং করা হয়। এতদিন এভাবেই চলছিলো। কিন্তু নানা ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যম মনিটরিংয়ে আরও সক্রিয় হয় সরকার। বলা যায় এতে ঘনিষ্ঠ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য মতে, রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে যে কোনো ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এটা প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক বা ইউটিউবের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া খানিকটা প্রক্রিয়াগত। এতে ফেসবুকের সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আগাগোড়ায়।

এতে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হলেও সময় ক্ষেপন হয়। বাংলাদেশ সরকার চায় ক্ষতিকর কনটেন্ট ছাড়ার সত্যিকার অভিযোগ আসা মাত্র তৎক্ষনাৎ ফেসবুক ব্যবস্থা নিক। এটি ঠেকাতে বাংলাদেশের তরফে এ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনেও জোর তাগিদ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন সরকারের প্রতিনিধিরা। তারা আশা করছেন- প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে এখন কেউ ইচ্ছা করলেই ফেসবুক-ইউটিউবে যা খুশি প্রচার করতে পারবে না, বিশেষ করে হার্মফুল বা ক্ষতিকর পোস্ট। সরকার তা আগেই আটকে দিতে পারবে। ফেসবুকের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝা এবং দেশীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ব্যবসা পরিচালনায় অনুরোধ আগেই সরকার জানিয়েছে বলে দাবি করেন দায়িত্বশীল  কর্মকর্তারা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক ও গ্রিস!

‘পুরস্কার নিয়ে আফসোস নেই আমার’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাতদের গোলাগুলি, নিহত ১

সমন্বয়হীনতা ও পর্যবেক্ষণের অভাবে বাজারে এমন অবস্থা

মাবিয়ার ইতিহাসের দিনে তিন স্বর্ণ বাংলাদেশের

বন্ধু সৈকত গ্রেপ্তার

তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্বারোপ

ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প কে?

দীর্ঘ হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান তালিকা বেশির ভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

রাজধানীর পৃথকস্থানে দু’টি বাসে আগুন

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব ল’ সম্মাননা দেবে ঢাবি

জটিলতায় আটকে আছে ২ লক্ষাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স

‘আওয়ামী লীগ আমার আবেগ আমার অস্তিত্ব’

সভাপতি এমএ সালাম সম্পাদক আতাউর

রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক অফিস বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশের

সমাধান খুঁজছে সিলেট বিএনপি