ইন্টারগেশন সেলে মুুখোমুখি হচ্ছেন সম্রাট-আরমান

দেশ বিদেশ

রুদ্র মিজান | ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩১
প্রশ্ন অনেক। উত্তর মিলছে না। গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন ঢাকার অপরাধ জগতের বাদশা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ক্যাসিনো, অবৈধ মার্কেট, দোকান, ফুটপাথ, মাদক ব্যবসার কমিশনসহ বিভিন্ন খাত থেকে উপার্জিত টাকা কোথায় রাখা হয়েছে? দল ও দলের বাইরে আড়ালে থেকে এসব অপকর্মে কারা সহযোগিতা করতেন? মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে। সূত্রে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের উচ্চপদস্থ কয়েক কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শিগগিরই তাদের জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে মুুখোমুখি (জেআইসি) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সূত্রমতে, ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকটি বিষয় ভাগ করা হয়েছে। কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশন দখল, কারা কেন সেখানে যাওয়া আসা করতেন, ক্যাসিনো ও টেন্ডার সিন্ডিকেটে কারা, বিদেশে অর্থপাচার এবং অস্ত্র ও মাদক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গতকাল সকালে সম্রাট অসুস্থ বোধ করেন জানালে তাকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে তার উপাজির্ত অর্থ, অর্থের উৎস এবং তার সঙ্গে পর্দার আড়ালে থেকে যারা ভাগ নিতেন, সহযোগিতা করতেন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সম্রাট একেকবার একেক তথ্য দিচ্ছেন।

প্রায়ই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছেন। রহস্যময়ভাবে নিরবতা পালন করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উপাজির্ত অর্থ দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন বলে জানান সম্রাট। তবে ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকা ও ক্যাসিনোতে খেলার বিষয় স্বীকার করেছেন তিনি। এমনকি তার কাছ থেকে সুবিধাভোগী একাধিক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও অস্ত্র প্রসঙ্গে অনেক প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত কয়েক দফা আলাদা আলাদাভাবে সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডের প্রথম দিন তেমন কোনো তথ্য উদঘাটন না হলেও আশা করা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাবে তার কাছ থেকে। আরমানকে দিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করেছিলেন সম্রাট। বড় ভাইদের সৌজন্যে প্রায়ই বিভিন্ন পার্টি আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে নায়িকা মডেলদের আমন্ত্রন করতেন আরমান। আরমান নিজেও সিনেমা তৈরি ও পরিচালনায় যুক্ত হন সম্রাটের পরামর্শেই। কালো টাকা সাদা করার জন্য এই ব্যবসাকে সুবিধাজনক মনে হতো সম্রাটের। ক্যাসিনো ব্যবসাসহ সম্রাটের সকল অপকর্মে মানিক-জোড়ের মতো সঙ্গে ছিলেন আরমান।

সম্রাটের আরেক সহযোগী কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। সম্রাটের কাছ থেকে সাঈদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ডিবি’র এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের নিয়মিত টিমের বাইরে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সম্রাট ও আরমানকে। সিনিয়র অফিসারদের সমন্বয়ে ওই স্পেশাল টিমটি গঠন করা হয়েছে। সম্রাটের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতেই ডিবি পুলিশ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, মাদক ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একইভাবে সম্রাটের সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মাদক ও অস্ত্র মামলায় সম্রাটকে ২০ দিন ও মাদক মামলায় আরমানকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। রমনা থানায় র‌্যাবের দায়েরকৃত এই দুটি মামলা তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের প্রথম দিনই গ্রেপ্তার করা হয় সম্রাটের সহযোগী যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। তারপরই আতঙ্কে ছিলেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। গ্রেপ্তার এড়াতে কর্মি বেষ্টিত অবস্থায় কয়েক দিন নিজের কাকরাইলের অফিসে থাকলেও পরে আত্মগোপনে চলে যান। গত ৬ই অক্টোবর কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই দিন দুপুরে তাকে নিয়ে র‌্যাব সদরদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান করে র‌্যাব। এসময় পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ বিদেশি পিস্তল, ক্যাঙ্গারুর চামড়া, এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল মাদক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় দুটি মামলা করা হয়। সেইসঙ্গে বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ছয় মাস ও গ্রেপ্তারের সময় মদ্যপ থাকায় আরমানকে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সমন্বয়হীনতা ও পর্যবেক্ষণের অভাবে বাজারে এমন অবস্থা

মাবিয়ার ইতিহাসের দিনে তিন স্বর্ণ বাংলাদেশের

বন্ধু সৈকত গ্রেপ্তার

তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্বারোপ

ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প কে?

দীর্ঘ হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান তালিকা বেশির ভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

রাজধানীর পৃথকস্থানে দু’টি বাসে আগুন

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব ল’ সম্মাননা দেবে ঢাবি

জটিলতায় আটকে আছে ২ লক্ষাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স

‘আওয়ামী লীগ আমার আবেগ আমার অস্তিত্ব’

সভাপতি এমএ সালাম সম্পাদক আতাউর

রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক অফিস বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশের

সমাধান খুঁজছে সিলেট বিএনপি

নিহত রুম্পার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

সেনাবাহিনী প্রধান মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন আজ

রাখে আল্লাহ মারে কে!